ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে আসা (ব্রেক্সিট) কার্যকর হওয়ার পর পাঁচ বছর পেরিয়ে গেছে। এ সময়ের মধ্যে অঞ্চলটির বাজারে ব্রিটিশ কৃষিপণ্য রফতানিতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। যুক্তরাজ্যের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এইচএমআরসির তথ্য বিশ্লেষণ করে ন্যাশনাল ফারমারস ইউনিয়ন (এনএফইউ) জানিয়েছে, ২০১৯ সালের তুলনায় বর্তমানে ব্রিটিশ রফতানি কমেছে প্রায় ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
এনএফইউ জানিয়েছে, ২০২০ সালে ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদের ফলে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন বাণিজ্যিক বাধা তৈরি হয়। এসব বাধার কারণেই ইইউয়ের বাজারে ব্রিটিশ পণ্যের রফতানি কমেছে। ব্রিটিশ গরুর মাংস থেকে শুরু করে বিখ্যাত চেডার পনির সব ধরনের পণ্যের বাজারই এখন আগের চেয়ে সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
যুক্তরাজ্যের পোলট্রি খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খাতটিতে রফতানি কমেছে ৩৭ দশমিক ৭ শতাংশ। এছাড়া গরুর মাংসের রফতানি ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ, ভেড়ার মাংস ১৪ শতাংশ এবং দুগ্ধজাত পণ্যের রফতানি ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ২০১৯ সাল ছিল ব্রেক্সিট কার্যকরের আগের শেষ পূর্ণাঙ্গ বছর। সে বছরের তুলনায় বর্তমান চিত্র ব্রিটিশ কৃষি খাতের জন্য বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
এনএফইউয়ের প্রেসিডেন্ট টম ব্র্যাডশ বলেন, ‘এ পতনের পুরো দায় হয়তো ব্রেক্সিটের ওপর চাপানো যাবে না। তবে এটি স্পষ্ট যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের ফলে ব্রিটিশ কৃষি খাতের ক্ষতির পরিমাণ অনেক বিশাল। কেবল বাণিজ্যিক বাধাগুলো অপসারণ করলেই যে ব্রিটিশ খাদ্যপণ্যের বাজার আবার জাদুকরীভাবে আগের অবস্থায় ফিরবে, এমনটা ভাবা ঠিক হবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাণিজ্যিক জটিলতা কমানোর অর্থ এই নয় যে আমরা ইইউ বাজারটি পুনরায় ফিরে পাব। ইউরোপের সুপারশপগুলোয় এমন কোনো খালি জায়গা পড়ে নেই, যেখানে লেখা আছে যে তারা ব্রিটিশ পণ্যের জন্য অপেক্ষা করছে। হারানো বাজার পুনরুদ্ধার করতে হলে দীর্ঘ সময়, কঠোর পরিশ্রম ও সঠিক পরিকল্পনার প্রয়োজন হবে।’
এদিকে বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য ও ইইউ এখন নিয়মিত রাজনৈতিক আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী মে বা জুনে নির্ধারিত পরবর্তী নেতাদের সম্মেলনের আগে কৃষি ও অন্যান্য অমীমাংসিত বিষয় সমাধানের জন্য প্রতি দুই সপ্তাহে একবার ফোনে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের ক্যাবিনেট অফিস ও ইইউ সম্পর্কবিষয়ক মন্ত্রী নিক টমাস-সিমন্ডস এবং ইউরোপীয় কমিশনার মারোস সেফকোভিচ এ বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করেছেন।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, আলোচনার পরিবেশ ইতিবাচক এবং দুই পক্ষই বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধান করে একটি ভালো ফলাফলের দিকে এগোতে আগ্রহী।
অন্যদিকে এনএফইউ বর্তমান সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে যেন ব্রিটিশ কৃষকদের নতুন নিয়মের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেয়া হয়। বিশেষ করে জিন এডিটিং বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন শস্য তৈরির মতো উদ্ভাবনী ক্ষেত্রে ব্রিটিশ কৃষকরা ইইউয়ের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।
টম ব্র্যাডশ মনে করেন, ইইউ যদি এ আধুনিক প্রযুক্তিগুলো গ্রহণ করতে চায়। তবে ব্রিটেনের ওপর যেন কোনো বাড়তি বিধিনিষেধ আরোপ না করা হয়।